পরিবর্তন কল্যাণ ফাউন্ডেশন

জ্ঞান ছড়ানো • সম্প্রদায় গড়া • মানবতার সেবা

❓ Frequently Asked Questions

The Prophet's ﷺ Hajj
30 Essential Questions Answered

Comprehensive answers about how Prophet Muhammad ﷺ performed his Farewell Pilgrimage, based on authentic Hadith from Sahih Bukhari, Sahih Muslim, and other reliable sources.

Share this resource:

বিশুদ্ধ মতানুসারে ৯ম বা ১০ম হিজরিতে হজ ফরজ হয়।
হযরত জাবের (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, মদিনায় অবস্থানকালে দীর্ঘ নয় বছর পর্যন্ত নবীজী ﷺ হজ করেননি।
দশম হিজরিতে নবীজী ﷺ হজ করার ঘোষণা দেন।
অসংখ্য লোক মদিনায় সমবেত হন এবং যাদের সামর্থ্য ছিল তারা সবাই নবীজী ﷺ এর সাথে হজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হন।
২৪শে জিলকদ নবীজী ﷺ মসজিদে নববীতে জুমার খুতবা প্রদান করেন।
তিনি উপস্থিত লোকদের হজের শিক্ষা দেন এবং হজের উদ্দেশ্য স্মরণ করিয়ে দেন।
তিনি বলেছিলেন, আমি যদি 'হ্যাঁ' বলতাম তবে তা প্রতি বছর ফরজ হয়ে যেত, যা পালন করা তোমাদের জন্য অসম্ভব হতো।
তিনি বলেছিলেন, অতিরিক্ত প্রশ্ন এবং নবীদের বিরোধিতার কারণে পূর্ববর্তী জাতিসমূহ ধ্বংস হয়েছে।
রাসূল ﷺ বলেন, মদিনাবাসীদের জন্য মীকাত হলো‘যুলহুলাইফা’। অন্যপথের লোকেদের ইহরাম বাঁধার স্থান হচ্ছে ‘আল-জুহফা’। ইরাকবাসীদের জন্য ‘যাতু ইরক’। নাজদবাসীদের জন্য মীকাত হলো ‘করন’। ইয়ামানবাসীদের জন্য মীকাত হলো‘ইয়ালামলাম’
যুলহুলাইফা থেকে কাবার দূরত্ব প্রায় ৪২০ কি.মি.
রাসূল ﷺ বলেন, সেলাই করা জামা, পায়জামা, পাগড়ি, টুপি ও মোজা পরবে না। তবে যদি কারো জুতা না থাকে, তবে টাখনুর নিচ পর্যন্ত মোজা কেটে জুতার মতো করে পরা যাবে।
ইহরাম অবস্থায় নারীরা মুখ ঢাকবে না এবং দস্তানা পরবে না।
ওয়ারস বা জাফরান দ্বারা সুগন্ধযুক্ত কোনো কাপড় পরা যাবে না।
২৫শে জিলকদ শনিবার দুপুরে তিনি যাত্রা শুরু করেন।
তিনি মসজিদে নববীতে সাধারণ যোহরের সালাত চার রাকাত আদায় করেছিলেন।
তিনি ‘শাজারা’ নামক রাস্তা দিয়ে বের হয়েছিলেন।
নবীজী ﷺ এর সাথে হাজার হাজার সাহাবী, নারী ও শিশু এবং তাঁর সকল স্ত্রীগণ ছিলেন। নারীদের মধ্যে ছিলেন হযরত আবু বকর রা. এর স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস রা., যিনি গর্ভবতী ছিলেন এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় নিকটে ছিল।
কেউ উট বা ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছিলেন, আবার কেউ হেঁটে যাচ্ছিলেন। • চিন্তা করুন সুদূর মদিনা থেকে মক্কা ৪২০ কিলোমিটার পথ হেঁটে তাঁরা হজ করতে আসতেন। আর আমাদের হজ সেই তুলনায় কতই না সহজ।
তিনি বনু সাঈদাহ গোত্রের আবু দুজানা সিমাক ইবনে খারশা (রা.)-কে গভর্নর নিযুক্ত করেন।
নবীজী ﷺ এর হজের এই বরকতময় সফরের বাহন হিসেবে ছিল ‘কাসওয়া’ নামের একটি উট। কাসওয়া ছিল রাসূল ﷺ এর প্রিয় উট। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় তিনি এই উটটি ব্যবহার করেছিলেন।
কাসওয়ার উটের পিঠে অতি সাধারণ একটি জিন লাগানো ছিল। জিনের উপর এক টুকরো কাপড় ছিল, যার মূল্য ছিল চার দিরহামেরও কম।
বাকী মালপত্র এবং সরঞ্জামগুলো হযরত আবু বকর রা.-এর একটি মালপত্র বহনকারী উটে উঠানো ছিল, যা তাঁরা দুজন ভাগ করে নিয়েছিলেন।
তাঁর অধিক বয়স এবং দুর্বল স্বাস্থ্যের কারণে তিনি সফরটি পুরোপুরি শেষ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তিনি মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ রা. এর স্ত্রী ছিলেন।
নবীজী ﷺ তাঁকে হজের ইচ্ছা পোষণ করতে বলেন এবং একটি শর্ত বসাতে বলেছিলেন— “হে আল্লাহ, আমার অবস্থান সেখানে, যেখানে আপনি আমাকে আটকে রাখবেন”
তিনি সেখানে পৌঁছে আসরের সালাত দুই রাকাত আদায় করেন এবং সেখানেই রাত কাটান।
হযরত আসমা বিনতে উমাইস (রা.)। তিনি গর্ভবতী ছিলেন এবং যুলহুলাইফায় পৌঁছে ইহরামের পূর্বেই তিনি সন্তান জন্ম দেন। শিশুটির নাম রাখা হয় মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর । তিনি ছিলেন হযরত আবু বকর রা. এর সহধর্মিণী।
তিনি নবীজীর ﷺ কাছে লোক পাঠিয়ে জানতে চেয়েছিলেন যে, এই অবস্থায় (নিফাস বা প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব) তিনি হজের জন্য কী করবেন বা কীভাবে ইহরাম বাঁধবেন।
নবীজী ﷺ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, ‘তুমি গোসল করে নাও এবং (রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য) এক টুকরো কাপড় ভালো করে বেঁধে ইহরামের নিয়ত করো।’
এই ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, কোনো নারী যদি ঋতুবর্তী হন বা প্রসব পরবর্তী নিফাস অবস্থায় থাকেন, তবে তিনিও গোসল করে ইহরামের নিয়ত করতে পারবেন এবং তাওয়াফ ছাড়া হজের অন্যান্য সকল কাজ (যেমন: মিনায় অবস্থান, আরাফা ও মুযদালিফায় যাওয়া) সম্পন্ন করতে পারবেন।
তিনি গোসল করেন এবং তাঁর মাথায় ও শরীরে সুগন্ধি মাখেন। চুলে আঠালো বস্তু ব্যবহার করেন, যেন দীর্ঘ সফরে তা ধুলাবালি ও উঁকুন থেকে সুরক্ষিত থাকে।
উম্মুল মুমিনিন আম্মাজান আয়িশা (রضي الله عنها) নিজ হাতে রাসূল ﷺ এর দাঁড়িতে মিশকযুক্ত সুগন্ধি লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

*আপনি বিবাহিত হলে এই সুন্নাহটি পালন করতে পারেন।
তিনি সেলাইবিহীন দুটি সাদা চাদর পরিধান করেছিলেন।
তিনি ‘কিরান হজ’ (হজ ও উমরা একত্রে) পালন করেছিলেন।
রাসূল ﷺ ইহরামের শুরুতে বলেন:

لَبَّيْكَ عُمْرَةً وَحَجًّا

অন্য বর্ণনায় রয়েছে:

اللَّهُمَّ حِجَّةٌ لاَ رِيَاءَ فِيهَا وَلاَ سُمْعَةَ

(হে আল্লাহ, আমি এমন হজের নিয়ত করছি যাতে লোক দেখানো বা খ্যাতি লাভের উদ্দেশ্য নেই।)
যুলহুলাইফার মসজিদে যোহরের সালাত আদায়ের পর বাহনে চড়ে যখন বাহনটি সোজা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তিনি উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ শুরু করেন।
নবীজী ﷺ-এর তালবিয়া ছিল:

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ ، لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ ، لاَ شَرِيكَ لَكَ

“লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক।”

হযরত আবু হুরাইরা (রضي الله عنه) বলেন, তালবিয়ায় রাসূল ﷺ لَبَّيْكَ إِلٰهَ الْحَقِّ لَبَّيْكَ বাক্যটিও বলেছেন।
জিবরাঈল (عليه السلام) এসে নবীজী ﷺ-কে সাহাবীদের উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করতে নির্দেশ দিতে বলেন।
সাহাবায়ে কেরাম উচ্চস্বরে / চিৎকার করে তালবিয়া পাঠ করছিলেন।
সাহাবায়ে কেরাম তালবিয়ার সাথে আরও কিছু শব্দ যোগ করেছিলেন। রাসূল ﷺ তা নিষেধ করেননি।

لَبَّيْكَ ذَا الْمَعَارِجِ، لَبَّيْكَ ذَا الْفَوَاضِلِ

এছাড়াও:

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ بِيَدَيْكَ لَبَّيْكَ وَالرَّغْبَاءُ إِلَيْكَ وَالْعَمَلُ
রাসূল ﷺ বলেন, যখন কোনো মুসলিম তালবিয়া পাঠ করে, তখন তাঁর ডানে ও বামে পাথর, বৃক্ষরাজি, মাটি—সবকিছুই তাঁর সাথে তালবিয়া পাঠ করে। এমনকি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত তালবিয়া পাঠকারীদের দ্বারা পূর্ণ হয়ে যায়।
রাসূল ﷺ যুলহুলাইফায় থাকাকালীন যোহরের সালাতের পর উট নিয়ে আসতে বলেন এবং উটের কুঁজের ডানদিক ফেড়ে দেন। এতে রক্ত প্রবাহিত হয়। একে ইশআর বলে।

তিনি রক্তের চিহ্ন মুছে দেন এবং উটটির গলায় দুটি পাদুকার মালা পরিয়ে দেন।
রাসূল ﷺ কুরবানির জন্য ৬৩টি উট সাথে নিয়েছিলেন।
রাসূল ﷺ সাহাবি হযরত নাজিয়া আল-খুযাঈ (রা) / যুওয়াইব আবূ কাবীসা (রা)-কে উটগুলো মক্কায় নিয়ে যেতে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
রাসূল ﷺ বলেন, সেটি জবাই করবে, তার স্যান্ডেল রক্তে ভিজিয়ে দিবে এবং মানুষের খাওয়ার জন্য রেখে দিবে।

তুমি ও তোমার সঙ্গীরা সেই গোশত খাবে না।
তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন এবং কোনো বিশেষ সম্মান বা আরামের আয়োজন গ্রহণে রাজি ছিলেন না।
রাসূল ﷺ বলেন, সত্তরজন নবী রাওহা পথে হজ করতে এসেছিলেন। তারা উলের পোশাক পরেছিলেন।
Rasul ﷺ বলেন, সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! মরিয়ম পুত্র ঈসা আ নিশ্চয়ই রাওহা উপত্যকায় হজ অথবা উমরা অথবা উভয়ের তালবিয়া পাঠ করবেন।
রাসূল ﷺ তাঁর সাহাবিদের নিয়ে ‘উসাইয়াহ’ নামক জায়গায় পৌঁছলে, ছায়ায় শুয়ে থাকা একটি হরিণ দেখতে পান, যা তীর দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত ছিল।

রাসূল ﷺ একজন সাহাবিকে নির্দেশ দেন হরিণটির পাশে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য, যেন সকলেই সেটিকে অতিক্রম করে সামনে চলে যাওয়া পর্যন্ত কেউ হরিণটিকে বিরক্ত করতে না পারে।
যখন কাফেলা ‘আরজ’ নামক জায়গায় পৌঁছালো, রাসূল ﷺ ও তাঁর সাহাবিগণ বিশ্রামের জন্য থামলেন।

নবীজী ﷺ তাঁর প্রিয় স্ত্রী আয়িশা (রা)-এর পাশে বসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে হযরত আবু বকর (রضي الله عنه) ও তাঁর কন্যা হযরত আসমা (রضي الله عنها) বসেছিলেন।

হযরত আবু বকর (রা) তাঁর সেবকের অপেক্ষায় ছিলেন, যিনি তাঁর ও রাসূল ﷺ-এর মালপত্র বহনকারী উটটি নিয়ে আসার কথা।

কিছুক্ষণ পর সেবক এলেন, কিন্তু তাঁর চেহারায় ছিল হতাশার ছাপ। আবু বকর (রা) জিজ্ঞেস করলেন, “উট কোথায়?”

সেবক বলল, “আমি উট হারিয়ে ফেলেছি।”

এ কথা শুনে আবু বকর (রা) রেগে গিয়ে বললেন, “তোমার দায়িত্ব ছিল শুধু একটি উট দেখাশোনা করা, আর সেটাই তুমি হারিয়ে ফেললে!”

নবীজী ﷺ হাসলেন এবং আশেপাশের লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন:

“দেখো তো, ইহরামের অবস্থায় এই মানুষটি কী করছে!”

কিছুক্ষণ পর কাফেলার পেছনের দায়িত্বে থাকা সাহাবি হযরত সাফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল (রা) উটটি খুঁজে পেলেন এবং রাসূল ﷺ-এর কাছে নিয়ে এলেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা) রাসূল ﷺ-এর ভালোবাসায় রাসূল ﷺ যে সব জায়গায় যাত্রাবিরতি করেছেন, সে সব জায়গায় তিনিও যাত্রাবিরতি করতেন।

রাসূল ﷺ যে সব জায়গায় সালাত আদায় করেছেন, সে সব জায়গায় তিনিও সালাত আদায় করতেন।
সেখানে তাঁর তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় এবং তিনি মাথায় শিঙা (হিজামা) গ্রহণ করেন।
‘আযরাক’ উপত্যকা অতিক্রম করার সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, “এটি কোন উপত্যকা?”

সঙ্গীগণ উত্তর করলেন, “আযরাক উপত্যকা।”

রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন:

“আমি যেন এখনো মূসা আ-কে দেখতে পাচ্ছি। তিনি তাঁর কর্ণদ্বয়ের ছিদ্রে অঙ্গুলি রেখে উচ্চস্বরে তালবিয়াহ্ পাঠ করে এ উপত্যকা অতিক্রম করে যাচ্ছেন।”

বর্ণনাকারী বলেন, এখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ মূসা আ-এর দেহের বর্ণ ও চুলের আকৃতি সম্পর্কেও উল্লেখ করেছিলেন, কিন্তু রাবী দাউদ তা স্মরণ রাখতে পারেননি।
এটি ছিল নবীজী ﷺ-এর মহীয়সী মা আমিনার সমাধিস্থল।
রাসূল ﷺ হারশা গিরিপথে এলেন। তিনি বললেন, “এটি কোন গিরিপথ?”

সঙ্গীগণ বললেন, “হারশা গিরিপথ।”

রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন:

“আমি যেন ইউনুস আ-কে দেখতে পাচ্ছি তালবিয়া পাঠ করা অবস্থায় তিনি গিরিপথ অতিক্রম করে যাচ্ছেন।”

তাঁর গায়ে একটি পশমী জুব্বা ছিল এবং তিনি একটি লাল উটের পিঠে আরোহিত ছিলেন। তাঁর উটের রশিটি খেজুর বৃক্ষের ছাল দ্বারা তৈরি ছিল।
রাসূল ﷺ বলেন:

“চলতে থাকো। এটি জুমদান পাহাড়। মুফাররিদুনরা এগিয়ে গেছে।”

সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, “মুফাররিদুন কারা?”

তিনি উত্তর দিলেন:

তারা সেইসব ব্যক্তি, যারা নিজেদের সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন রাখে—অর্থাৎ অধিক পরিমাণে জিকির করে।

তাদের জিকির তাদের ভারী বোঝা হালকা করে দেবে, এতটাই যে কিয়ামতের দিনে তারা খুব হালকা বোঝা বহন করবে।
তিনি বলেন যে, নবী হুদ আ এবং নবী সালিহ আ এই উপত্যকা অতিক্রম করেছিলেন।

তারা লাল বর্ণের তরুণ উটনির পিঠে সওয়ার ছিলেন, যার লাগাম ছিল সুতার তৈরি।

তাদের পরিধানের পোশাক ছিল সাধারণ এবং গায়ের জামা ছিল উলের তৈরি।

তারা প্রাচীন গৃহ তথা কাবা তাওয়াফের জন্য রওয়ানা হয়েছিলেন।
না, তিনি পুরো সফরে কসর (সংক্ষিপ্ত) সালাত আদায় করতেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন:

“শুবরুমার পক্ষ থেকে লাব্বাইক।”

নবী ﷺ শুধু প্রশ্নের উত্তরই দিতেন না, সাহাবিদেরও প্রশ্ন করতেন।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন:

“শুবরুমা কে?”

সে বলল, “আমার ভাই” অথবা “আমার নিকটাত্মীয়।”

তিনি বললেন:

“তুমি কি নিজের হজ করেছ?”

সে বলল, “না।”

তখন রাসূল ﷺ বললেন:

“আগে নিজের হজ করো, তারপর শুবরুমার পক্ষ থেকে হজ করবে।”
নবী ﷺ এক ব্যক্তিকে খালি পায়ে হাঁটতে এবং একটি উট নিয়ে চলতে দেখলেন, যার কুঁজের চারপাশে একটি দড়ি বাঁধা ছিল এবং তার গলায় জুতা ঝুলছিল, যা নির্দেশ করছিল যে এটি একটি কুরবানির পশু।

লোকটি খুব ক্লান্ত ছিল।

নবী ﷺ তাকে বললেন:

“এর উপর চড়ো।”

সে উত্তর দিল:

“এটি একটি কুরবানির পশু।”

নবী ﷺ আবার বললেন:

“এর উপর চড়ো!”

এরপর সেই ব্যক্তি নবী ﷺ-এর কথা মেনে উটের উপর চড়েছিল।

ইসলামের আবির্ভাবের আগে কুরবানির পশুর উপর চড়া আরবদের কাছে নিষিদ্ধ ছিল, কারণ তারা এগুলোকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করত।

নবী ﷺ এই জাহেলী প্রথা বাতিল করেন।
নবী ﷺ উত্তর দিয়েছিলেন:

“রমজান মাসে উমরাহ করা।”
সারিফে পৌঁছানোর পর আয়েশা (রা) ঋতুবর্তী (হায়েয) হন।

এ কারণে তিনি উমরার আমল সম্পন্ন করতে পারবেন না ভেবে অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং কাঁদতে থাকেন।
নবীজী ﷺ তাঁর কাছে এসে কান্নার কারণ জানতে পারেন এবং বলেন:

“এ তো আদম কন্যাদের জন্য আল্লাহ নির্ধারিত করেছেন। তুমি পাক হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য হাজীদের মতো সমস্ত কাজ করে যাও, কেবল কাবার তাওয়াফ করবে না।”
নবীজী ﷺ নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তিনি হাজিদের মতো হজের যাবতীয় কাজ—যেমন মিনায় যাওয়া, আরাফায় অবস্থান, মুযদালিফায় রাত কাটানো ও দোয়া করা—সম্পন্ন করবেন।

তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত কাবা শরীফ তাওয়াফ করবেন না।
এই ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, কোনো নারী হজের সফরে ঋতুবতী হলেও তাঁর হজ বাতিল হয়ে যায় না।

তিনি তাওয়াফ ছাড়া বাকি সব আমল করতে পারেন এবং পরে পবিত্র হয়ে তাওয়াফ সম্পন্ন করলেই তাঁর হজ পূর্ণ হয়ে যায়।
আয়েশা (রا) তাঁর হজের সব কাজ শেষ করার পর যখন পবিত্র হলেন, তখন নবীজী ﷺ তাঁর ভাই আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা) কে নির্দেশ দেন তাঁকে ‘তানঈম’ (বর্তমানে মসজিদে আয়েশা) নামক স্থানে নিয়ে যেতে এবং সেখান থেকে নতুন করে ইহরাম বেঁধে উমরা সম্পন্ন করাতে।
হজের সফরের কয়েক বছর আগে নবীজী ﷺ উম্মুল মুমিনীন মায়মুনা রা-কে এই সারিফ নামক স্থানেই বিবাহ করেছিলেন।

এছাড়াও হযরত মায়মুনা রা-কে এই স্থানেই কবর দেওয়া হয়।
নবীজী ﷺ বলেন:

“যার সাথে কুরবানির পশু নেই এবং যে এ ইহরাম ‘উমরাহ’র ইহরামে পরিণত করতে আগ্রহী, সে তা করতে পারবে। আর যার সাথে কুরবানির পশু আছে, সে তা পারবে না।”

Prepare for Your Hajj with Complete Guidance

Download our comprehensive books and join our community to learn how to perform Hajj according to the Sunnah of Prophet Muhammad ﷺ.